1. alauddin.reporter24@gmail.com : Alauddin Sikder : Alauddin Sikder
  2. ukhiyasomoy@gmail.com : Ukhiyasomoy : Monibul Alam Rahat
  3. monibulalamrahat@gmail.com : Riduan Sohag : Riduan Sohag
  4. sanaullahalhady05@gmail.com : shohan pervez : shohan pervez
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ভাষা শহীদদের প্রতি এবি পার্টি উখিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন বান্দরবানে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা নিহত এড. গোলাম ফারুক খান কায়সার এর শ্বশুরের ইন্তেকালে এবি পার্টি উখিয়া উপজেলার শোক ইসলামী আন্দোলন গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করে- গাজী আতাউর রহমান উখিয়ায় এবি পার্টি কতৃক ছাত্রদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মরিচ্যায় পালং ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ১, গুরুতর আহত ২ উখিয়ায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান: ৩৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড উখিয়ায় বাজার মনিটরিংয়ে ৮০কেজি নষ্ট মিষ্টি ধ্বংস! জালিয়াপালং স্পোর্টস একাডেমি’কে হারিয়ে সেমিফাইনালে ‘পালং স্পোর্টিং ক্লাব’

থামছে না রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম-জকির বাহিনীর তৎপরতা

  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০
  • ১৩৬

সুনীল বড়ুয়া:

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন পাহাড়গুলোতে আস্তানা গড়ে তোলা সেই রোহিঙ্গা ডাকাতদের কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না। শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত ও বাহিনী প্রধান আব্দুল হাকিম ও জকির আহম্মদ বাহিনীর সদস্যরা একের পর এক হত্যা, খুন, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘঠিত করেই চলেছে।

অন্যদিকে এদের ধরতে র‌্যাব,পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখলেও এরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এমনকি কিছুদিন আগে র‌্যাব হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তাদের বেশকিছু আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেও হাকিম ও জকির ধরা পড়েনি।

জানা যায়, জকির ও হাকিম বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য  টেকনাফের নাইট্যং পাহাড়, হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, মিনাবাজার, পুটিবনিয়া, লেদা, জাদিমুরা ও শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়গুলোতে আস্তানা গেঁড়েছে।

আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর থাকলেও রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় কিছু লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে তারা বারবার আস্তানা পরিবর্তন করে। যে কারণে তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় এবং রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, পাহাড়ে আশ্রয়স্থল বানিয়ে খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানবপাচার করছে এসব ডাকাতদল। এছাড়াও এরা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে ক্যাম্পে থাকা কিছু রোহিঙ্গা। এছাড়াও এসব ডাকাতদলের মাধ্যমে কোনো কোনো পাহাড়ে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরও জানান, টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির সংলগ্ন  পাহাড় ঘিরে ৪-৫টি সংঘবদ্ধ ডাকাত বাহিনী সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে ডাকাত জকির আহমদ ওরফে জকির ও আবদুল হাকিম বাহিনীর অপরাধ কর্মকাণ্ডই বেশি চোখে পড়ছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলে না।

জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় আক্তার উল্লাহ (২৪) নামে এক কৃষককে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা ডাকাতরা- এমন অভিযোগ করেছে তার পরিবার। একই এলাকার শাহ মোহাম্মদ শাহেদ (২৫), মোহাম্মদ ইদ্রিস (২৭) নামে আরও দুই কৃষককে তুলে নিয়ে গেছে তারা। কৃষক আক্তার উল্লাহ স্থানীয় মিনাবাজার এলাকার মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে। তার পরিবারের দাবি, সম্প্রতি আক্তার উল্লাহকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। এরপর মুক্তিপণের টাকা  চেয়ে না পাওয়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করে।

পরে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের উনছিপ্রাং পুটিবনিয়া নামক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমে মরদেহ রেখে যায়। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় অপহৃত বাকি দু’জনকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হাকিম বাহিনীর সদস্যরা অপহরণের সঙ্গে জড়িত। অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।

জানা যায়, ২ মার্চ সকালে টেকনাফের জাদিমোরা ও শালবনের মাঝামাঝি এডরা নামক পাহাড়ে র‌্যাবের সঙ্গে গুলিতে ৭ ডাকাত নিহত হয়। এরা সবাই জকির গ্রুপের সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান এবং বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় আরও বেশকিছু ‘রোহিঙ্গা ডাকাত’। এতে ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি ডাকাতরা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও বাহিনী প্রধানেরা বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারি একটু কমে আসায় বেড়ে গেছে ডাকাতদলের আনাগোনা।

তারা আরও জানান,পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে সফল হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। কারণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ডাকাত বা সন্ত্রাসীরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে। তাছাড়া লোকালয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর অবস্থান দেখলেই পাহাড়ে পৌঁছার আগেই সোর্সের মাধ্যমে সে খবর পাহাড়ে পৌঁছে যায়। তবে ডাকাতমুক্ত করতে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ‘ওয়াচ টাওয়ার’ নির্মাণ করলে সফলতা আসতে পারে- এমন দাবি অনেকের।

হাকিম ও জকিরের উত্থান

মিয়ানমারের রাশিদং থানার বড়ছড়া গ্রামের জানি আলীর ছেলে আবদুল হাকিম। ২০১৫ সালে ১৩ জুন টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়ার বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্যদাতা (সোর্স) মোহাম্মদ সেলিম ও ওরফে মুন্ডি সেলিমকে কুপিয়ে হত্যার পর প্রথম আলোচনায় আসেন এই ডাকাত সর্দার। এরপর ২০১৬ সালে ৪ জুলাই টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে (৬৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় হাকিমের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাকিম ডাকাত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে টেকনাফের ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে ডাকাতি, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন আবদুল হাকিম।

অন্যদিকে, টেকনাফের নয়াপাড়ার সি ব্লকের আমিনের ছেলে জকির আহমদ ওরফে জকির ডাকাত (২৮) এর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের হাতে দেশি অস্ত্র ছাড়াও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। একসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ করতো নূরে আলম ডাকাত। ২০১৬ সালে ১৪ মে তার গ্রুপ এক আনসার সদস্যকে হত্যা করে তার অস্ত্র লুট করেছিল। ২০১৮ সালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ডাকাত নূর আলম।

এরপর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেয় সলিম বাহিনী। নূরে আলম ও সলিম দুজনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল জকিরের। কিন্তু, ইয়াবার মুনাফার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সলিমকে হত্যা করে জকির বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পে জকির একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। তখন থেকে জাদিমুরা ও শালবন ক্যাম্পের পাহাড়ে অপরাধের ‘রাজা’ বনে যান।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের পাঁচ মাসে (পহেলা মে পর্যন্ত) বিভিন্ন  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফের ৩৩ জন নিহত হয়েছে। তার মধ্যে ১৯ জন সক্রিয় ডাকাত ছিল। এর মধ্যে গত ২ মার্চ র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন, ১২ মার্চ ২ জন এবং সর্বশেষ পহেলা মে ২ জনসহ মোট ১১ জন পাহাড়ি ডাকাত নিহত হয়েছে। তারা সবাই জকির বাহিনীর সদস্য ছিল।

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বাংলানিউজকে বলেন, হাকিম ও জকির শীর্ষ এ দুই রোহিঙ্গা ডাকাতের অনেক অনুসারী ইতোমধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। সবশেষ তিন কৃষককে অপহরণের পর আমরা স্থানীয় লোকজনসহ অভিযান পরিচালনা করেছি। এসময় ২০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

‘আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। কোনো খবর পেলেই সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি। আশা করি সফল হবো।’

র‌্যাব-১৫ সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অ্যাডিশনাল এসপি বিমান চন্দ্র কর্মকার বাংলানিউজকে বলেন, ইতোমধ্যে র‌্যাব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওই পাহাড়গুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে। সেই রোহিঙ্গা ডাকাতদের ধরতে তৎপর রয়েছে।

সুত্র: বাংলানিউজ২৪.কম।



নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...





নামাজের সময় সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:২০
  • দুপুর ১২:০০
  • বিকাল ১৬:২৮
  • সন্ধ্যা ১৮:২২
  • রাত ১৯:৩৮
  • ভোর ৫:৩৫
Ukhiyasomoy©Copyright All Rights Reserved 2019
Developed By Theme Bazar